শাহবাগে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রোববার বেলা দুইটার পর থেকে সর্বাত্মক অবরোধ শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল রাতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বেলা দুইটার পর শাহবাগ মোড় বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নেতা-কর্মীরা সড়কের মাঝখানে বসে স্লোগান দিচ্ছেন। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘হাদি না মোদি, হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
গত শুক্রবার থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশগ্রহণ করেন।
সর্বাত্মক অবরোধের আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শাহবাগে গিয়ে আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে কথা বলেন। তারা ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দ্রুত বিচার কার্য সম্পন্নের অঙ্গীকার করেন। তবে এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করে ইনকিলাব মঞ্চ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়েছে। তাদের পালাতে সহায়তা করেছেন ভারতের দুই নাগরিক, যাদের মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ৭–১০ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
ওসমান হাদি গত আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দেশের পরিচিত মুখ হন। ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
